ক্ষমা চেয়ে জরিমানা মাফ পেলেন আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দকে সতর্ক করে জরিমানার টাকা মওকুফ করেছেন হাইকোর্ট। মামলা করার পর শুনানি না করে আদালতের ‘সময় নষ্ট করায়’ তাঁকে জরিমানা করেছিলেন আদালত।ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ায় বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার জরিমানা মওকুফের এ আদেশ দেন।

আদেশকালে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম আইনজীবী আকন্দকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, আপনি ফেসবুকে আদালত নিয়ে নানা কথা লেখেন। আপনার বয়স হয়েছে, সাবধান হয়ে যান।এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় গণমাধ্যমকে বলেন, জরিমানার আদেশের পর আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ ফেসবুকে এবং আইনজীবীদের মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছিলাম। পরে আদালত তাঁকে সতর্ক করে জরিমানার টাকা মওকুফ করে দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, করোনায় সরকারের বিধিনিষেধ জারির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ২৫ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি রিট মামলা করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। মামলাটি কার্যতালিকায় আসার পর শুনানি না করে এবং আদেশের সময় হাজির না থেকে আদালতের ‘সময় নষ্ট করায়’ গত ৫ মে এ আইনজীবীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন হাইকোর্ট।

এরপর গত ১৯ মে ভার্চুয়াল আদালতে যুক্ত হয়ে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি জরিমানার টাকা মওকুফ করার আর্জি জানান  ইউনুছ আলী আকন্দ। আদালতে সেদিন তিনি বলেছিলেন, ভার্চুয়াল এ কোর্টের জুম আইডি পরিবর্তন হওয়ায় মামলার শুনানিতে অংশ নিতে পারিনি। আমাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা মাফ করে দিন। আমি ক্ষমা চাইছি।

পরে আদালত তাঁকে লিখিত আবেদন নিয়ে আসতে বলেন। ইউনুছ আলী আকন্দ সে অনুযায়ী লিখিত আবেদনে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে আজ এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হয়।গত ২৫ এপ্রিল দায়ের করা ওই রিট মামলায় ইউনুছ আলী আকন্দ দাবি করেন, জরুরি অবস্থা জারি করা ছাড়া লকডাউন দেওয়ার সুযোগ নেই। চলমান লকডাউনের ওপর স্থগিতাদেশ এবং আর যাতে লকডাউন দেওয়া না হয়, সে জন্য নির্দেশনা চেয়েছিলেন তিনি।