নিজেদের দোষ জনগণের ওপর চাপাতেই কথিত লকডাউন

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতাসিনদের ঘোষিত কথিত লকডাউন চলছে। কিন্তু সরকারের এমন অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত মানতে পারছেনা সাধারণ মানুষ। ফলে লকডাউনের মধ্যেও রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কোথাও কোথাও যানজট হচ্ছে। দ্রুত গতিতে বেড়ে চলছে করোনা রোগীর সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারও।

জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে করোনা সংক্রমণ রোধ করার একমাত্র উপায় কি লকডাউন? নাকি সরকারের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও উদাসিনতা ঢাকতেই লকডাউন ঘোষণা করে সাধারণ মানুষের ওপর দোষ চাপানে হচ্ছে?

বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে একমাত্র মাধ্যম লকডাউন বা বিধি নিষেধ আরোপ করা নয়। বাংলাদেশের করোনার যে বিশাল বিস্তার তার জন্য দায় ক্ষমতাসীনদেরই নিতে হবে। সরকার যদি প্রথম থেকে উদাসিনতা না দেখিয়ে দ্বায়িত্ববান হতো তাহলে দেশের এই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

অন্যদিকে বাংলাদেশে যখন করোনা প্রবেশ করে যখন প্রস্তুতি নেয়ার দরকার তখন ক্ষমতাসীনরা করোনার চেয়ে শক্তিশালি দাবি করে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে মুজিববর্ষের উৎসবও পালনে ব্যস্ত ছিলো। তারা দাবি করে আসছে ইউরোপ আমেরিকার থেকেও ভালো। অথচ আইসিইউ বেড , অক্সিজেন সাপ্লাই, ভেন্টিলেটর এবং ভ্যাক্সিনের ব্যবস্থা না করে দরিদ্র মানুষকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ধ্বংসাত্মক লকডাউন চাপিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে অক্সিজেনের অভাবে ঠিকই গণহারে মারা যাচ্ছে মানুষ। যেটা মোটেও হওয়ার কথা ছিল না।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ১০০টি হাসপাতালের মধ্যে ৫২টিতেই আইসিইউ সুবিধা নেই। এর মধ্যে ৩৫টি হাসপাতালই জেলা সদর হাসপাতাল। মোট আইসিইউর প্রায় ৭৫ শতাংশই ঢাকা বিভাগে, ২৫ শতাংশ বাকি সাত বিভাগে। জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা থাকলে মৃত্যু কমানো সম্ভব হতো বলে মনে করেন জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা।

গত বছরে শেখ হাসিনা পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট, ভেন্টিলেটর স্থাপন এবং উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থার নির্দেশ থাকলেও বাস্তবে কাজের কোন অগ্রগতি দেখা যায়নি। ১৩ মাসেও জেলা পর্যায়ে আইসিইউ ইউনিট তৈরি না হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতি ও পরিকল্পনার ঘাটতিকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।