স্বৈরাচারী হাসিনার দুঃশাসনের শেষ কোথায়?

বিদ্যুতের দাম গত ১১ বছরে ১০ দফায় ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহকৃত যে বিদ্যুতের গড় মূল্য ছিল তিন টাকা ৭৩ পয়সা তা বেড়ে হয়েছে সাত টাকা ১৩ পয়সা। কিন্তু তারপরও আ.লীগের চরম লুটপাটের কারণে গত এক দশকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) লোকসান দিতে হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৮৪৬ কোটি টাকা। যার ফলে বিদ্যুৎ খাতে এই অবৈধ সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৫২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। এই লুটপাটের সাথে সরাসরি জড়িত সরকারদলীয় নীতিনির্ধারকেরা।

ওয়াসার পানির দাম বেড়েছে গত ১৩ বছরে ১৪ বার। এ সময়ে পানির দাম তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ সালে ঢাকায় আবাসিক গ্রাহকদের জন্য পানির দাম ছিল প্রতি ইউনিট (১ হাজার লিটার) ৫ টাকা ৭৫ পয়সা। দাম বাড়ানোর কারণে আগামী মাস (জুলাই) থেকে তা হচ্ছে ১৫ টাকা ১৮ পয়সা।এ সংস্থার অঘোষিত আমৃত্যু ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানের বেতনও পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে। এ হিসাবে গত ১২ বছরে তাকসিম এ খানের মাসিক বেতন বেড়েছে ৪২১ শতাংশ। বর্তমানে তাঁর বেতন ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকাএকসময় নিয়মিত মুনাফা করে আসা সংস্থাটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে প্রায় ২৯৪ কোটি টাকা লোকসান করেছে!

কথিত উন্নয়নের বিশাল এক কর্মযজ্ঞ চলছে ঢাকা’র জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে গাজীপুর মহানগরীর শিববাড়ি সড়কে গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্টের আওতায় দেশের প্রথম বিআরটি প্রকল্প শুরু হয়।দীর্ঘ নয় বছর ধরে চলছে এ প্রকল্পের কাজ। ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে মেয়াদ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর করা হয় এবং ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৪ কোটি ৮২ লাখ ১৪ টাকা। আরও দুই দফা প্রকল্পের সময় বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুনে শেষ করার কথা রয়েছে। ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এ সময়ে মধ্যে মাত্র ৫৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ধীরগতিত এবং অপরিকল্পিত ভাবে কাজ করায় এ পথে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগের সীমা নাই।তাই সর্বত্র প্রশ্ন উঠছে, স্বৈরাচারী হাসিনার দুঃশাসনের শেষ কোথায়?